ইউটিউবকে চ্যালেঞ্জ দিতে বিশ্ববাজারে চীনের বিলিবিলি
ডেস্ক রিপোর্ট
আপলোড সময় :
২৪-০৮-২০২৬ ১২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৪-০৮-২০২৬ ১২:২৫:৩৮ অপরাহ্ন
চীনের জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম বিলিবিলি এবার বিশ্ববাজারে বড় পরিসরে নিজেদের কার্যক্রম সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্বজুড়ে ইউটিউবের একচ্ছত্র আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে আন্তর্জাতিক সংস্করণের অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ নতুন করে উন্মুক্ত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভিডিও নির্মাতাদের (কনটেন্ট ক্রিয়েটর) নিজেদের প্ল্যাটফর্মে টানতে শুরু করেছে তারা।
নতুন এই উদ্যোগের ফলে বিলিবিলি অ্যাপ ব্যবহারের আগের কড়া নিয়মগুলো শিথিল করা হয়েছে। আগে চীনের বাইরে থেকে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে পরিচয় যাচাইয়ের বাধ্যবাধকতা ছিল। নতুন সংস্করণে সেই নিয়ম তুলে দেওয়ায় এখন বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের ব্যবহারকারী সহজেই প্ল্যাটফর্মটিতে যুক্ত হতে পারবেন।
বিলিবিলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আন্তর্জাতিক সংস্করণে চীনের জনপ্রিয় ভিডিওর পাশাপাশি অন্যান্য দেশের নির্মাতাদের কনটেন্টও দেখা যাবে। অর্থাৎ, বিশ্বজুড়ে ভিডিও নির্মাতাদের জন্য বড় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম তৈরির চেষ্টা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারী ও নির্মাতাদের আকৃষ্ট করতে বিলিবিলি এখন ইংরেজি ভাষার ওয়েবসাইট তৈরির কাজ করছে। এর মাধ্যমে বিদেশি নির্মাতারা আরও সহজে ভিডিও আপলোড ও ব্যবস্থাপনা করতে পারবেন। বিশ্বজুড়ে কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে লস অ্যাঞ্জেলেস, লন্ডন, মেক্সিকো সিটি, সাও পাওলো, ইস্তাম্বুল ও টোকিওতে স্থানীয় ‘কমিউনিটি ম্যানেজার’ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
ইতোমধ্যেই মিস্টারবিস্টের মতো জনপ্রিয় বিশ্বখ্যাত নির্মাতারা বিলিবিলিতে যুক্ত হয়েছেন। চীনে বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৩৭ কোটি ৬০ লাখ। এই বিশাল বাজারকে কাজে লাগিয়ে আন্তর্জাতিক নির্মাতা ও ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ব্যবসায়িক সংযোগ ঘটাতে একটি ‘মার্কেটপ্লেস’ তৈরির পরিকল্পনাও করছে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) মাধ্যমে ভিডিওর বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ বা মডারেশনের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
ইউটিউবের মতো শক্তিশালী প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা বিলিবিলির জন্য সহজ হবে না বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা। বড় চ্যালেঞ্জ হবে মানসম্মত ভিডিও নির্মাতা ও দর্শক ধরে রাখা। এছাড়া চীনা মালিকানাধীন হওয়ায় টিকটকের মতো বিলিবিলিকেও তথ্য সুরক্ষা ও সরকারি নজরদারি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোতে আইনি বা রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠেনি।
ইউটিউবের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের বাজারে বিলিবিলি কতটা জায়গা করে নিতে পারে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।
বাংলাস্কুপ/ডেস্ক/এইচকে/এসকে
প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স